সর্বশেষ :
বেনজীরের গ্রেপ্তারের খবরে পরীমনির ‘মজা’ পুশ ইনে এত আগ্রহ থাকলে শুভেন্দুকে পাঠিয়ে দিন, তার বাড়ি বরিশাল প্রেমিকার সঙ্গে বিশ্বকাপ দেখতে গিয়ে সমালোচনায় ট্রুডো নগরীর প্রত্যেকটি পাড়া-মহল্লার রাস্তা সম্প্রসারণ করছি: সিসিক প্রশাসক কয়েস লোদীসহ দেশের ৮ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব গ্রহণ শাপলা ট্র্যাজেডি থেকে পরীমণি: গত এক দশকে বেনজীর ছিলেন সমালোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রে মৌলভীবাজারের শিক্ষার্থী সাজ্জাদুলের উদ্ভাবনের প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ১ উইকেটে হার বাংলাদেশের গোলাপগঞ্জে হত্যা মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা জিলু পুলিশের জালে ৪ থানার ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ রাজু এবার বিশ্বনাথ পুলিশের জালে, রয়েছে ১৩টি মামলা!

৫দিনের উত্তেজনার পর নবীগঞ্জে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ, আহত কয়েক শতাধিক, সংর্ষষ চলমান

৫দিনের উত্তেজনার পর নবীগঞ্জে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ, আহত কয়েক শতাধিক, সংর্ষষ চলমান

এম,এ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ)
নবীগঞ্জ শহরে সম্প্রতি দফায় দফায় একাধিক সংঘর্ষের জের ধরে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, বেসরকারী হাসপাতাল ও যানবাহনে ভাঙচুর- লুটপাট এবং ট্রাক, বাস , সিএনজি, ভাংচুর এবং মোটরসাইকেলে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছিল বিগত ৪দিন যাবৎ। ভাঙচুর ও লুটপাটে অন্তত কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে।

গতকাল সোমবার সকালে আনমনু ও তিমিরপুর গ্রামের লোকজন পুর্ব ঘোষনা দিয়ে নিজ নিজ এলাকায় পুর্ব প্রস্তুতিমুলক মিটিং করেন। এর পরে বিকাল ৩ ঘটিকার পূর্ব ঘোষনা দিয়ে উভয় গ্রামের শত শত মানুষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে শহরের মারামারিটি সাম্প্রদায়িক ধাঙ্গায় রুপ নেয়। নবীগঞ্জ শহরে আশপাশের তিন চারটি মৎস্যজীবি গ্রামের লোকজন এক পক্ষে, পূর্ব তিমির পুর, পশ্চিম তিমিরপুর ও চরগাও গ্রামের নারী পুরুষ দুটি পক্ষ হয়ে কয়েক হাজার মানুষ সংঘর্ষে জড়ান। এতে সংঘর্ষ চলাকালে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে উভয় পক্ষে কয়েক শতাধিক নারী পুরুষ আহত হয়েছেন। কেউ নিহত হয়েছেন কিনা জানা যায়নি। শহরের মধ্যে দুই শতাধিক দোকান পাট ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেয়া হয়। বিশেষ করে কয়েকটি মৎস্যজীবি সম্প্রদায়ের মালিকাধীন ইউনাইডেট হসপিটাল ভাংচুর , মাছ বাজার ভাংচুর লুটপাট হয়েছে।

এছাড়া শহরের পশ্চিম বাজারে প্রতিটি মার্কেট ও দোকানপাট ভাংচুর লুটপাট হয়েছে। এক অরাজকতা শহরের মধ্যে প্রায় ৪/৫ ঘন্টা ব্যাপী চলছে, এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যৌথবাহিনী সংঘর্ষ থামানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ।

এদিকে শহরজুড়ে এক ধরনের নৈরাজ্যকর অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত। গুজব ছড়িয়ে আনমনু ও তিমিরপুর গ্রামের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে উসকে দিয়ে সাম্প্রদায়িক ধাঙ্গা সৃষ্টি করে একটি বিশেষ মহল।কারন আনমনু গ্রাম হচ্ছে মৎস্যজীবি আর তিমিরপুর গ্রাম হচ্ছে সাধারন বাঙ্গালী।

গত শনিবার রাতের সংঘাতের পর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান শহরের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করলেও পরদিন শনিবার সকাল থেকে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আনমুনু গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নবীগঞ্জ শহর ও আনমনু পয়েন্টে জড়ো হতে থাকলে আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। এর জের ধরে শহরে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। রবিবার সকালে ও রাতে সংঘর্ষ ও চোরাগুপ্তা হামলা হয়। এর জের ধরে সোমবার সকালে উভয় গ্রামের লোকজন পুর্ভ প্রস্তুতি সভা করে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

শনিবার (৫ জুলাই) সকালে নবীগঞ্জ শহরে উপজেলার ৬নং কুর্শি ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার এক নিরীহ গাড়ি চালকের ওপর আনমনু গ্রামের লোকজন নৃশংস হামলা চালায়। চালককে আটকে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি তার গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। এমনকি তার গলা বরাবর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করা হয়। ভাগ্যক্রমে চালক সরে গিয়ে প্রাণে বেঁচে যান। এসময় গাড়ির চাবি, গাড়ির কাগজ এবং গাড়িতে থাকা দুটি ফোন ও টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে জানান শ্রমিকরা। এ ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শহরের সংঘর্ষের সময় সুযোগ নিয়ে হামলা ও লুটপাট চালায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র। শামীম আহমদ নামে এক ব্যবসায়ী প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাজারে যখন আতঙ্কে নিরবতা নেমে আসে এবং কেউ থাকে না, তখন এই চক্রটি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে ঢুকে হামলা ও লুটপাট চালায়।

গত ৪ দিনে বাজারের অন্তত ৫০টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটের ঘটনা ঘটে। ব্যাটারিচালিত মিশুক ভাঙচুর করে ব্যাটারি চুরি করা হয়েছে। এছাড়া আরো কয়েকটি মিশুক ভাংচুর ও মোটর সাইকেলে আগুন দেয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, অনেকেই সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছেন। ২০২৪ সালেও অনুরূপ ঘটনায় আনমুনু গ্রামের লোকজন বিভিন্ন দোকান থেকে মালামাল লুট করেছিল, যা পরবর্তীতে সালিশের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল।

সংঘাত নিরসনে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া, জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী মো. শাহজাহান আলী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সরফরাজ আহমদ চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা আবুল হোসেন জীবন প্রমুখ সালিশের উদ্যোগ নেন।

স্থানীয়রা বলছেন, ইনাতগঞ্জ থেকে পলাতক আশাহিদের বিভিন্ন অপকর্ম আড়াল করতেই এই অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। শহরে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে দোকানপাট ও যানবাহনে ভাঙচুর ও লুটপাট চলে। থমথমে পরিবেশ এখনও বিরাজ করছে।

নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মো. কামরুজ্জামান জানান, “আমরা বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানিয়েছি। সংঘর্ষ ও লুটপাটের বিষয়ে আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি। তবে পুরো বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে।” শহরে শান্তি শৃংখলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ, সেমনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.




© All rights reserved ©ekusheysylhet.com
Design BY DHAKA-HOST-BD
weeefff